আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, হেফাজত নেতারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে বিএনপি-জামায়াতের ইন্ধনে ভাস্কর্য ভাঙচুর করেছে। কুষ্টিয়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুর নিয়ে রোববার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুব উল আলম হানিফ। তিনি ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় চারজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান মাহবুব উল আলম হানিফ।
হানিফ বলেন ‘হেফাজতে ইসলাম বা খেলাফত মজলিসসহ যেসব ধর্মভিত্তিক দল আছে, প্রত্যেকটি দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা হয় নিজেরা রাজাকার ছিল অথবা রাজাকার পরিবারের সন্তান। যারা আমাদের স্বাধীনতা মানতে পারেনি, তারাই বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে হামলা করেছে। এই ভাস্কর্যে হামলা মানে দেশের ওপর হামলা, জাতির ওপর হামলা এবং সংবিধানের ওপর হামলা।’
তিনি বলেন, বিএনপিকে স্বাধীনতার পক্ষের দল আর বলা যায় না। তাদের নেত্রী খালেদা জিয়া হেফাজতের শাপলা চত্বর ঘেরাওয়ের দিন তাদের সমর্থন দিয়ে প্রমাণ করেছে তিনি ও তার দল এদের পৃষ্ঠপোষক। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ওপর হামলা করেছে, তারা এ দেশকে বিশ্বাস করে না, এ দেশের সংবিধান বিশ্বাস করে না। এরা পাকিস্তানের পেত্মাতা। এটি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ওপর হামলা করেনি, তারা পুরো দেশের ওপর হামলা করেছে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, এমন কয়েকজনকে পুলিশ চিহ্নিত করেছে, তাদের যে কোনো সময় গ্রেপ্তার করা হবে।
হানিফ বলেন, এদেরকে যে কোনো মূল্যে রুখতে হবে। সারা দেশের মানুষকে সোচ্চার হতে হবে। এদের যে কোনো মূল্যে প্রতিহত করা হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাংসদ সেলিম আলতাফ জর্জ, জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন, পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাতসহ অন্যরা। এ ছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের নেতা এবং প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তারাও মতামত ব্যক্ত করেন।
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। এদিকে, কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ হয়েছে। পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে ফুটেজ প্রচার না করলেও ৫৫ সেকেন্ডের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ছাড়া আরো দুটি ভিডিওতে ভাঙচুরকারী দুজনের আসা এবং যাওয়ার দৃশ্য রয়েছে।
এ ঘটনায় কুষ্টিয়া পৌরসভার সচিব কামাল উদ্দিনের দেওয়া অভিযোগটি এখনো মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি। তবে চারজনকে জড়িত সন্দেহে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।